রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তার মা-ও। গত ২৪ জুন রাতে উপজেলার শালঘরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- শালঘরিয়া গ্রামের মো. মাসুদুর রহমান (৩৮) এবং তার মা রহিমা বেগম (৬০)। অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের মো. হামিদ মোল্লা (৫০) এবং তার স্ত্রী মোছা. জিনজিরা বেগম (৪৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন সন্ধ্যে ৭টার দিকে শালঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুদুর রহমান (৩৮) দুর্গাপুর পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উত্তর পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
এ সময় অভিযুক্ত মো. হামিদ মোল্লা (৬০) সাবল দিয়ে মাসুদুর রহমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তার ডান হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয় এবং বুকের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একই সময় হামিদ মোল্লার স্ত্রী অপর অভিযুক্ত মোছা. জিনজিরা বেগম (৪৫) ইটের টুকরা দিয়ে আঘাত করলে মাসুদুরের বাম চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগকারীর পরিবার সূ্ত্রে জানা যায়, হামলাচলাকালে ছেলের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার মা রহিমা বেগম (৬০)-কেও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পরদিন (২৫ জুন) আহতের বাবা মো. আব্দুস সোবাহান বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।
আহত মাসুদুর রহমানের স্ত্রী উম্মে সালমা শারমিন জানান, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। অভিযুক্ত মো. হামিদ মোল্লা ও মোছা. জিনজিরা বেগম সম্পর্কে মাসুদুর রহমানের আপন চাচা-চাচি।
তিনি বলেন, বর্তমানে আহতরা বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন মামলার সাক্ষী ও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদি মো. হামিদ মোল্লা হামলা ও হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইখা