রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে বুড়ীরহাট যাওয়ার ৪ কিলোমিটার জুড়ে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।
জানা গেছে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়কের চিত্র এখন এমনই। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির চার কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে, কোথাও আবার বড় গর্তে জমে থাকছে পানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচের চিহ্নও নেই। একটির পর একটি গর্ত এড়িয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
কোথাও গর্ত এতটাই বড় যে যানবাহনের চাকা পড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
ওই এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
বুড়িরহাট, মাছুয়াপাড়া, মাঝাপাড়া, ভাটারপাড়, ফরিদাবাদ, বৈদ্যনাথপুর, বিষ্ণুপুর, মিড্ডারমাল্লি, তেলিপাড়া, অনন্তপুর, ফুলবাড়ি, বড়বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া, হাজীপাড়া, পলাশবাড়ী, খিয়ারচড়া, খানবাড়ির ডাঙ্গা ও ডাঙ্গাপাড়াসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সময়মতো কৃষকেরা তাদের কুষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরমান হোসেন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। ভ্যান বা অটোতে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ঝাঁকি দেয়। ভাঙা জায়গাগুলোতে ভ্যান-অটো পড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়। রাস্তাটি ভাঙতে ভাঙতে চিকন হয়ে গেছে। প্রায়ই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তাটার দিকে কারও নজর নেই।’
ফলবাড়ি এলাকার গোপাল রায় বলেন, ‘রাস্তাটি এখন আর রাস্তা বলে মনে হয় না, মনে হয় মরণফাঁদ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে তারাগঞ্জ বাজারে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দিনের বেলায় সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানো গেলেও রাতে এই সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
অটোচালক মফিজাল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তা ভাঙা থাকায় যাত্রীও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। অনেক সময় ভাঙা রাস্তার কারণে দূরের যাত্রীরাও যেতে চান না। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত, তা বোঝা যায় না। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।’
ইখা