হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় শেডের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে দামি ইলেকট্রনিক্স, গার্মেন্টস সামগ্রী এবং জরুরি ওষুধের কাঁচামাল। দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করছে।
জানা গেছে, বর্তমানে এই বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় ওয়্যারহাউজ বা গুদাম অত্যন্ত অপ্রতুল। অগ্নিকাণ্ডের পর পণ্য সংরক্ষণের সুবিধার্থে জরুরি ভিত্তিতে শেড নির্মাণের জন্য বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে বেবিচককে ৬২ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও নতুন শেড নির্মাণে উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েও এই বন্দর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন আমদানিকারকরা।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. খাইরুল আলম ভূঁইয়া জানান, দেশের প্রধান আকাশপথের এই অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমদানিকারকদের এই কার্গো ভিলেজ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, এয়ারে আনা জরুরি ও দামি স্পেয়ার পার্টস বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। একাধিকবার শেড নির্মাণের তাগিদ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। থার্ড টার্মিনালের মূল কার্যক্রম শুরু না হলেও আমদানিকৃত পণ্য নিরাপদে রাখার স্বার্থে সেখানকার ওয়্যারহাউজ সুবিধা দ্রুত চালু করা উচিত।
অব্যবস্থাপনার দায় আমদানিকারকদের ওপর চাপিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস. এম. রাগীব সামাদ সাংবাদিকদের জানান, আমদানিকারকরা যথাসময়ে পণ্য খালাস না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কারণেই এই জট ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান ও কাস্টমসের অনিয়ম ও জটিলতার কারণেই খালাসে দেরি হয়। কাস্টমস জটিলতা নিরসন করে পণ্য সঠিকভাবে ইনভেন্টরি করে সাজিয়ে রাখা হলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সব পণ্য খালাস করা সম্ভব।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন শেড নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ছাড়া কার্গো ভিলেজের এই দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ইখা