এইমাত্র
  • প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জরুরি বার্তা দিল ডিপিডিসি
  • বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
  • নাটোরে রেললাইন ভেঙে ট্রেন চলাচল বন্ধ, ৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক
  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উৎসবের আমেজ, জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল
  • টেস্ট বাণিজ্যের রোষানলে চিকিৎসক, বাধ্য হয়ে ছাড়লেন চেম্বার!
  • নেত্রকোনায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২, আহত ৩
  • রাফিনহা-ইয়ামালের জোড়া গোলে রায়োকে হারিয়ে বার্সার টানা তৃতীয় জয়
  • যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর
  • নেপালে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞ, এক বাড়ি থেকেই উদ্ধার ২৪ মরদেহ
  • ভারতে আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১১
  • আজ মঙ্গলবার, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
    ইরানে পরমাণু হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প
    ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।সোমবার (৩১ অগাস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করছেন কি না।ট্রাম্প জানান, ‘আমি সাধারণত এ বিষয়ে এমন কিছু বলি না, তবে উত্তর হলো—হ্যাঁ। এর কোনো কারণ নেই। কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। আর এখন আমি তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেননি।তবে, সম্প্রতি এক পডকাস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক অচলাবস্থা না কাটলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্ট বলেন, প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও যদি ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্য ধরে রাখে, তাহলে পারমাণবিক হামলার মতো পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে।কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সম্ভাবনাকে অসম্ভব ভাবা বোকামি হবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে।এমআর-২
    পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন মোদি
    সাংহাই কো-অপারেশন সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি ইউক্রেনে ‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে সরে এসে যুদ্ধ বন্ধের’ আহ্বান জানান পুতিনকে। জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা সেদিকেই এগোচ্ছেন।সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের বিসকেকে তাদের মধ্যে বৈঠকটি হয়। সাংহাই কো-অপারেশনের উল্লেখযোগ্য সদস্য দেশগুলো হলো রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান বেলারুশ।পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় মোদি বলেন, “আমাদের অন্তহীন যুদ্ধ থেকে সরে এসে যুদ্ধ বন্ধের দিকে এগোতে হবে।” এ সময় পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি।”২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এরপর চার বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু যুদ্ধ এখনো থামেনি। গত কয়েকদিনে উল্টো যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে।মোদি পুতিনকে বলেন যুদ্ধের কারণে মানবতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পেছনে নিয়ে যায়। অপরদিকে শান্তির দিকে প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতাকে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মাধ্যমে পূর্ণ করে।”মোদি বলেন যুদ্ধ বন্ধ করা মানবতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গত কয়েকদিন ধরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। এমন পরিস্থিতিতে পুতিন হুমকি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সবকিছুতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।এমআর-২

    জাতীয়

    সব দেখুন
    জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ নিতে সকাল থেকে জিয়া উদ্যান এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিলের জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হু্ইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও অনেকে।এমআর-২
    দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, তিনি সব পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।‘বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।’সূত্র : বাসসএবি 
    অনুমোদন পেল প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল, বেতন বাড়ছে কার কত?
    প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়।এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। এখন শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে সরকার।নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডে (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ১৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গ্রেডে (১ম গ্রেড) বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নবম বেতন স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ধাপগুলো বাস্তবায়ণ করা হবে।বেতন বৃদ্ধির মূল চিত্রসর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম গ্রেড) : বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা মূল বেতন থেকে ১৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ।সর্বোচ্চ গ্রেড (১ম গ্রেড) : বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন থেকে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।মধ্যবর্তী গ্রেডগুলো : ১ থেকে ২০ গ্রেডের অন্যান্য ধাপেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে আনুপাতিক হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত এই রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।ইখা
    কারিগরি শিক্ষায় চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ: মাহদী আমিন
    চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিভিন্ন ভালো দিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ জন্য কারিগরি শিক্ষায় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা এবং যৌথ ডিগ্রি চালুর বিষয়ে চীনের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।চীন সফরের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষিত করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।মাহদী আমিন বলেন, চীনের কারিগরি শিক্ষা স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ক্ষেত্রে চীনের অনেক সফল উদাহরণ রয়েছে। এসব ভালো দিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় কীভাবে প্রয়োগ ও গ্রহণ করা যায়, তা নিয়েই মূলত আমাদের সাম্প্রতিক চীন সফরে আলোচনা হয়েছে। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করতে চীনের অভিজ্ঞতা ও ভালো চর্চাগুলো সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা।তিনি বলেন, তিন দিনের সফরটি স্বল্প সময়ের হলেও সেখানে তিনটি বড় আয়োজন ছিল। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, কারিগরি শিক্ষা ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বাণিজ্যের জন্য দক্ষ জনবল উন্নয়নবিষয়ক সিম্পোজিয়াম এবং শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন উল্লেখযোগ্য। এসব আয়োজনে চীনের প্রথম সারির প্রায় ৫০টি কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।চীনের একটি বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা নগরী পরিদর্শনের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সেখানে কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা দেওয়া ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে কীভাবে অংশীদারত্ব তৈরি করা হয় এবং স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিল্প খাতের কী ধরনের সংযোগ রয়েছে, তা সরেজমিনে দেখা হয়েছে।শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কাজ করা হবে। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও যৌথ ডিগ্রি চালুর বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।চীনা ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য পাঠ্যক্রম কীভাবে উন্নত করা যায় এবং চীনা ভাষার শিক্ষক কীভাবে বাংলাদেশে আনা যায়, তা নিয়ে চীনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।এইচএ
    আদানি আমাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে খেলা করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
    ভারতের আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে ‘খেলা করছে’ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, একদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও পরদিন তা কমিয়ে ৫০ মেগাওয়াট দেওয়া হচ্ছে।আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১২টায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো গ্যাস কূপ খনন করে যায় নাই অতীতের সরকার। আমাদের যা রিজার্ভ ছিল তা এখনো চলে। আমরা নতুনভাবে কিছু গ্যাস কূপ খনন করতে শুরু করেছি, খুব ত্বরিত গতিতে। গ্যাস নাই, তারা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে লুটপাট করেছে, সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ডিজেলচালিত, কয়লাচালিত ৯টা বিদুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। অতি উচ্চমূল্যে বিশাল আকারে একটা এলপিজির স্টক কেনা হয়েছে, বিদুৎ কেন্দ্রগুলো রান করার জন্য। আশা করি, এক সপ্তাহের মধ্যে ৯-১০টা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে ফেলব।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগে কন্ট্রাকটাররা টুটু করে ঘুরতো, মন্ত্রীর রুমে, পিওনদেরকে টাকা দিয়ে রুমে যেতো একটা সাইন করে নার্সের ট্রান্সফার, ডাক্তারের ট্রান্সফার, ৩ লাখ, ৫ লাখ ডাইরেক্টর হলে, দুই কোটি এরকম ঘুষ খেয়েছে। টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অফ করাপশন, এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সবার।মাদক ও জুয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সমাজ থেকে যেটা এখন বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে নেশা, আমাদের জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। মাদক, ইয়াবা, টিয়াবা কী কী আছে? সবাই মিলে নির্মূল করতে হবে। জুয়া, অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে। একদিকে তাদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে যারা যে পর্যায়ে আছে, পিতা-মাতাকে কাউন্সেলিং করতে হবে। অফিসার যারা আছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের বোঝাবেন তাদের সন্তানরা সন্ধ্যা বাতির পর যেন বাইরে না থাকে। আগের মতো কাজ করলে চলবে না।মাদকসেবীদের বিষয়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো মাদক সেবনকারী যদি কারো ঘরে বসে খায়, সেই ঘরের মালিক, যদি কারো বাড়ির পাশে টঙে বসে খায় তাকে সবদিক থেকে সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। গ্রেপ্তার করবেন, তারা জামিন নেবে, আবারও গ্রেপ্তার করবেন। আমাদের দেশে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণকারী যারা করে এই সমস্ত কিছু হয় নেশার জন্য। এদেরকে একদিক থেকে গ্রেপ্তার করতে হবে।ধর্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ষণের ব্যাপারে আপনাদের সজাগ, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের মেয়ে, আমাদের মা, তাদের প্রতি এই সম্মান রেখে এ ধরনের কাজ হলে একজন না জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে এবং আপনারা পেরেছেন। রামিসা হত্যায় আমাদের সরকার সাত দিনের ভিতরে তার চূড়ান্ত বিচার করতে সক্ষম হয়েছে। এটা আমাদের গ্রেট সাকসেস। অতএব আমাদের পুলিশ পারে এবং এটাও পারবে।দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি গত ১৭ বছরে কঠিনভাবে বাসা বেধেছে। বিগত সময়ে নির্বাচন আসলে ইউএনও সাহেব পেতেন ১ কোটি, থানার পরিধি বেধে ওসি সাহেব পেতেন মিনিমাম ৫০ লাখ, ১ কোটি পেইতেন ডিসি সাহেব। মহা অরণ্য ছিল ঘুষের, দুর্নীতির। তবে এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি কিন্তু কাউকে দেইনি, আর কেউ চায়ও‌ নাই। কাজ করেছে আগের থেকে বেশি, কী কাজ, ন্যায় কাজ। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, যে মন্ত্রণালয় দায়িত্ব আমার, সে মন্ত্রণালয় ১৭ বছর জনগণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য ফ্যাসিস্টরা কোনো কাজ করে নাই। ঔষধ মানুষকে দেয় নাই, নতুন কোনো নিয়োগ দেয়নি। দেশে ১৮ কোটি মানুষ, প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন ডাক্তার। ডাক্তার নাই, নার্স নাই, দুর্নীতিতে ভরপুর। ফরিদপুর এবং বরিশালে দুটি এমআরআই মেশিন পড়ে আছে। মানুষের ট্রিটমেন্ট দেওয়ার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি মেশিন তবে পড়ে আছে। ১৮ কোটি টাকা করে কিনেছে এই মেশিন। সাত কোটি টাকা করে চুরি করা হয়েছে মেশিনগুলো থেকে, মেশিনগুলো যেভাবে কিনেছে ঠিক সেভাবেই প্যাকেটিং করা রয়েছে। এরকম অনেক মেশিনের জন্য জনবল নেই, টেকনিশিয়ান নেই, কিনে ফেলে রেখেছে।তিনি বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার শুধু ইকুইপমেন্ট কিনেছে, চুরি করেছে কয়েক লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি। এখন সেগুলো অকেজো হয়ে গিয়েছে, এখন ভাঙ্গারিদের কাছে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। একটা হাসপাতালেও সিট বৃদ্ধি করেনি, কোনো হাসপাতালে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেনি। এরকম একটা স্বাস্থ্যসেবার ভিতরে আমি পড়েছি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আপনাদের সহযোগিতায় ছয় মাসে জেলা উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তারদের অ্যাটেনডেন্স বৃদ্ধি করতে সার্থক হয়েছি শতভাগ। এখন যত জায়গায় যাই ডাক্তার পাই, নার্স পাই। রোগীদের সাথে আলাপ করে তারা বলছে, আপনারা দায়িত্ব নেবার পর এখন সেবার মান বৃদ্ধি হয়েছে।এসময় তিনি আরও বলেন, দেশটাকে টিকাতে হলে আমাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, নেশাকে বন্ধ করতে হবে, জুয়াকে না বলতে হবে আমাদের বাচ্চাদের বাঁচাতে হলে। দেশটাকে বাঁচাতে হলে চিকিৎসার মান উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের তদারকি করতে হবে। তদারকি ঘরে বসে হয় না আপনার জনগণের কাছে যেতে হবে। সিভিল সার্জন চেয়ারে বসে থাকার জন্য না, ওসি সাহেব চেয়ারে বসে থাকার জন্য না, ডিসি মহোদয় শুধু বসে থাকার জন্য না। কয়টা সাইন ফাইল করেন এটার জন্য বসে থাকা যাবে না। আমাদের পাগলের মত সমাজে নামতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মানিকগঞ্জ জেলায় কর্মরত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।এইচএ
    দেশে হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত রোগীর সংখ্যা ৯৭৩ জন।সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এমআর-২
    স্পিকারের সঙ্গে আইপিইউর মহাসচিবের সাক্ষাৎ
    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আইপিইউর মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী। এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন বারংবার উৎসর্গ করেছে। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নিজেদের অধিকার আদায়ে আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করে নাই।স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হলেও গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়। মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।তিনি বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রহসনের। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভুলুন্ঠিত করে দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা হয় এসব নির্বাচনের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রজনতা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচারের অবসান ঘটায়। তিনি বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্খা পূর্ণ হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট আমাদের দায়বদ্ধতা মুক্ত হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে শক্তিশালী, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।সাক্ষাৎকালে তারা জাতিসংঘের অধীনস্ত সংস্থা ও সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের কার্যকর ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।এসময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, প্রতিনিধিদলের সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এইচএ 
    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। যারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন।ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে নতুন করে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাস থেকেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন পর্ব শুরু করা হবে। যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কমিশন।এইচএ 

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উৎসবের আমেজ, জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল
    আজ ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ঢাকার জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন।ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জিয়া উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসেন।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ৯টার পরে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।ইখা
    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উৎসবের আমেজ, জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল
    আজ ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ঢাকার জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন।ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জিয়া উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসেন।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ৯টার পরে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।ইখা
    বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পূরণে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।দেশকে সমৃদ্ধ ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে নেওয়া নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং দূরদর্শী বিভিন্ন কর্মসূচি তাঁকে দেশবাসীর কাছে ভীষণ জনপ্রিয় করে তোলে।দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র- এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, সেসব নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলটির বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ।আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।অনুরূপভাবে আজ সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।ইখা
    জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করছে: রিজভী
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ থেকে ৪৮ বছর আগে এই দিনে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।তিনি বলেন, দেশ ও জাতির চরম সংকটকালে দুঃশাসনের বাতাবরণের মধ্যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রতি জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব নেতাকর্মী দলের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রতিও জানাই গভীর শ্রদ্ধা। এই শুভদিনে আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপির মূল আদর্শ। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন শহীদ জিয়াউর রহমান  প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশী পরিচয়’কে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহান দিনে আমি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্রের পথচলা অব্যাহত রাখা ও জনগণের অধিকার স্বেচ্ছাচারী কোন শক্তি আর যেন কখনোই কেউ হরণ করতে না পারে সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তাতে জনগণের প্রত্যাশা পুরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি তাঁর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে বিএনপি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেও বিএনপি সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বৈষম্য ও সামাজিক অনাচার দূর করে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জনাব তারেক রহমানের সার্বিক পরিকল্পনা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সবসময় তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছে। বিএনপি রাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং নারী ও শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কখনোই পিছপা হবে না।রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।এইচএসএস
    নরওয়ের প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক
    নরওয়ের প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসির শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।দলটির সেক্রেটারি জেনারেল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে পাঠানো একটি শোকবার্তা ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের হাতে তুলে দেন।আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকাস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসিতে গিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দূতাবাসের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং নরওয়ের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।অন্যদিকে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, সরকার, জনগণ এবং রাজপরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন, নরওয়ের জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং দেশের বিভিন্ন কঠিন সময়ে জনগণের পাশে থাকার কথা স্মরণ করেন।শোকবার্তায় বলা হয়, রাজা হারাল্ড পঞ্চম তার নেতৃত্ব, বিনয় এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে নরওয়ের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। ঐক্য, সহনশীলতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান তাঁর উত্তরাধিকারকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।এতে আরও বলা হয়, এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরওয়ের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবার ও নরওয়ের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।রাজা হারাল্ড পঞ্চম গত ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ১৯৯১ সালে নরওয়ের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।এইচএ
    সংসদে পিটিয়ে হত্যা ও জুতা ছোড়াছুড়ির ‘কালো ইতিহাসে’ ফিরতে চাই না: তাহের
    অতীতে সংসদে স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা, ডেপুটি স্পিকারকে হত্যা এবং জুতা ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সেই ‘কালো ইতিহাসে’ ফিরে যেতে চান না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।আজ রোববার জাতীয় সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ‘অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে, জুতা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমরা সেই কালো ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই না।’তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পাওয়ার কথা। একইভাবে কমিটিগুলোর সভাপতির পদেও ২৬ শতাংশ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের কাউকে দেওয়া হয়নি।চিফ হুইপের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নিলে তাদের সভাপতি পদ দেওয়া হবে—এমন কোনো সমঝোতা হয়নি।তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা যাব এবং সেই হিসেবে আপনি আমাদের সভাপতি দেবেন—এমন কথা আমরা কখনোই বলিনি। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করব না। একটি কমিটিতে জয়েন করানোর জন্য শর্ত আরোপ করে জোর-জবরদস্তি করার ট্র্যাডিশন আমরা সঠিক মনে করি না।’বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটি জনগণের সংসদ। তাই বৈষম্যবিরোধী এই সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।এইচএসএস
    গুম করে কীভাবে রাখা হয়েছিল, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২ মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান মেলে। দেশের একজন জাতীয় নেতাকে এভাবে প্রকাশ্যে গুম করে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছিল পুরো জাতি।আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল? বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলার সময় হয়নি সালাহউদ্দিন আহমদের, কারণ তিনি দেশে ফেরার পর থেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে ঢাকার উত্তরায় যাঁর ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন, সেই ব্যক্তির মুখেই জানা গেছে অনেক তথ্য। তিনি বাসস-এর এই প্রতিবেদকের কাছে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।প্রেক্ষাপট দিয়ে শুরু করা যাক-দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তাঁর সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে। গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়-‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাঁকেও গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তাঁর গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাঁকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাঁকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাঁদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাঁদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছুপর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাঁকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-"চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।" এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লাখ লাখ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখাসালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল। ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাঁকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তাঁর জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি। ওই দিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’এইচএ
    বুধবার দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস
    দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শায়রুল কবির জানান, আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে মির্জা আব্বাসের।দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি আল্লাহর রহমতে অনেকটা সুস্থ হয়ে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চলছিল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের পর তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এমআর-২
    Loading

    Loading…