একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে। অথচ সেই দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জেনেও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। ময়মনসিংহের ত্রিশাল-পোড়াবাড়ি সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও মরা গাছ এখন পথচারী ও চালকদের জন্য নীরব আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে পোড়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে শুকনো গাছের ছাল ও ডালপালা খসে পড়ছে। বহু গাছের বড় বড় ডাল সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে। মালবাহী ট্রাক কিংবা উঁচু যানবাহন চলাচলের সময় এসব ডালে ধাক্কা লাগায় কয়েকটি গাছে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে।
এছাড়া কোথাও কোথাও শুকিয়ে যাওয়া গাছ বিদ্যুতের তারের ওপর হেলে রয়েছে। ফলে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই গাছ বা ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও পথঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল মিয়া জানান, সড়কে মরা ও হেলে পড়া গাছ নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। তিনি বলেন, “গাছ কাটার কঠোর আইনের কারণে কেউ নিজ দায়িত্বে গাছ সরাতে চায় না। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।”
একই সড়কের ভ্যানচালক হারুন রশীদ বলেন, “কয়দিন আগেই মরা গাছের ডাল পইড়া দুইজন আঘাত পাইছে। গাড়ির ওপরে পইড়া কাঁচও ভাঙছে। গাছগুলা দ্রুত কেটে ফেলা দরকার।”
অন্য এক পথচারী সোহাগ ফরাজি বলেন, “কয়েক বছর ধরে মরা গাছগুলো এখন পচে পচে পড়ছে। কোন সময় গায়ে এসে পড়ে সেই ভয়ে রাস্তার এক পাশ দিয়ে সতর্ক হয়ে হাঁটতে হয়।”
গাছগুলোর কারণে জানমালের ঝুঁকি তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জানান, গাছগুলো ঠিক কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা। গাছগুলো কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করব। পরিদর্শন শেষে গাছগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এমআর-২