চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট বাণিজ্যের রোষানলে পড়ে গিয়াস উদ্দিন টিপু নামের এক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিলেন চেম্বার। ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মা প্যাথলজি নামক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তিনি শিশু, ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তার চিকিৎসাসেবা ভালো হওয়াতে প্রতিদিন সেবা নেন অর্ধশত রোগী। হঠাৎ তিনি চেম্বার ছেড়ে দেওয়াতে দীর্ঘদিন ধরে তার থেকে চিকিৎসা নেওয়ার রোগীরা বিপাকে পড়েছেন এবং রোগী ও স্বজনরা এইসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বয়কট করা আহ্বান জানান।
চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন টিপু তার ডা: গিয়াস উদ্দিন টিপু নামক পেইজে লিখেন, সীতাকুণ্ড পৌরসদরের চেম্বার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। একটি ল্যাবে সপ্তাহে ২ দিন চেম্বার করতাম। রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট না দেওয়ার কারণে মালিকপক্ষ আমার উপর সন্তুষ্ট না। তাই সম্মান বজায় রেখেই জমজমাট চেম্বারকে বিদায় জানালাম। জনবান্ধব চিকিৎসা—এ দেশে আসলে অনেকটা অসম্ভব। দালাল নির্ভর সবকিছু। বাচ্চাদের জীবন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে কখনোই আপোষ করিনি সামেনও করবো না ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে ডাক্তার গিয়াস উদ্দিন টিপুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মানুষকে সেবাই দেওয়ায় আমার মূল লক্ষ্য। অহেতুক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাপে পড়ে শিশুদের টেস্ট দেওয়া একজন আদর্শ ডাক্তারের মধ্যে পড়ে না। টাকার চেয়ে আমার কাছে একজন রোগীর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।
তার এ সিদ্ধান্তের পর থেকে স্থানীয়রা মা প্যাথলজিকে বয়কট করার আহ্বান জানান।
সামাজিক ব্যক্তিত্ব মো: কাইসার আলী চৌধুরী তার ফেসবুকে লিখেন, ল্যাবে চাচ্ছে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট কিন্তু সেই ল্যাবের সাথে আপোষ না করে ডা: গিয়াস উদ্দিন টিপু ল্যাবকে বিদায় বলে দিল, ডাক্তার সমাজের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলো।
রনি চৌধুরী নামের আরেক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, মা প্যাথলজিকে সবাই বয়কট করুন।
মা প্যাথলজি এর পরিচালক নুপুর কান্তির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তিনি আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে চিকিৎসা দেন হিসাবে আমরা অনুরোধ করেছি তিনি রোগীদের যেই টেস্টগুলো দেন সেগুলো যেন আমাদের এখান থেকে করার জন্য বলেন। যদি না পারেন তাহলে মাসোয়ারা আমাদেরকে একটি খরচ দেওয়ার জন্য বলি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তার ডাক্তার মো: আলতাফ হোসেন বলেন, কোন ডায়গনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ একজন চিকিৎসককে চাপ দিয়ে টেস্ট করানোর সুযোগ নেই। যে চিকিৎসক রোগীর চিন্তা করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোষানাল থেকে মুক্তি পেতে চেম্বার ছেড়ে দিয়েছেন তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি যদি কোন লিখিত অভিযোগ জানান তাহলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।
ইখা