ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গুরুতর হুমকির কারণে তাকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছিলেন, তার এক সন্তানকে হত্যাচেষ্টা করছে ইরান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি ‘গুরুতর হুমকি’ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত জানায়নি।
এর আগে ২৪ আগস্ট, ইসরায়েলি টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইরান তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে।’ তবে তার দুই ছেলের মধ্যে কাকে কথিত ওই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি নেতানিয়াহু।
ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৩ সালে মিয়ামিতে চলে যান। এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের বেশির ভাগ সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। জুলাই থেকে ইয়ার, তার মা সারা এবং ভাই আভনের নেতানিয়াহুর জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে শিন বেত।
ইয়ার নেতানিয়াহু তার বাবার অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার পক্ষে সরব থাকার জন্য পরিচিত তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন মন্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
২০২৫ সালে তিনি পডকাস্টার জো রোগানের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর সমালোচনা করেন।
এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ‘তিনি এই গ্রহের প্রত্যেক নব্য নাৎসি ইহুদিবিদ্বেষীকে প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তার অনুষ্ঠানে আনতে রাজি হননি, কারণ সে জানে যে আমার বাবার সঙ্গে সে কোনোভাবেই টিকতে পারবে না এবং বছরের পর বছর ধরে চালানো ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
এর আগে পডকাস্টার জো রোগান কেলেঙ্কারিতে জড়ানো হান্টার বাইডেনের প্রশংসা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করলে তারও সমালোচনা করেন ইয়ার। তিনি লিখেছিলেন, ‘রক্ষণশীলদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা যে, জো রোগান কোনো রক্ষণশীল নন।’ মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্ট দেয়ার কারণে ২০১৮ সালে ইয়ার নেতানিয়াহুর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছিল।
এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি কি জানেন কোথায় কোনো হামলা হয় না, আইসল্যান্ড এবং জাপানে। তার কারণ হলো সেখানে কোনো মুসলিম নেই।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘১৯৬৪ সাল থেকে ‘ফিলিস্তিনি’ নামে পরিচিত মানবাকৃতির দানবদের সঙ্গে কখনো শান্তি হবে না।’
এবি