জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহে পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন রেললাইন এলাকায় এবং মেলান্দহের কোনামালঞ্চ গ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ও মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক।
নিহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী লাকী আক্তার (৪০) ও তাঁর ছেলে রাজু আহমেদ (১৪)। এ ঘটনায় রাজুর দাদি বুলি বেগম (৬০) আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া মেলান্দহের কোনামালঞ্চ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুনাইদ (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। জুনাইদ হাজরাবাড়ী রেখিরপাড়া এলাকার সোলাইমান ইসলাম কাজলের ছেলে এবং কোনামালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে আব্দুর রশিদের বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে রাজু নিজেই ওই সংযোগ মেরামত করতে গেলে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে মা লাকী আক্তার তাকে স্পর্শ করলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন।
পরে চোখের সামনে ছেলে ও পুত্রবধূকে ছটফট করতে দেখে দাদি বুলি বেগম তাদের উদ্ধার করতে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথিমধ্যে লাকী আক্তার ও তাঁর ছেলে রাজুর মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত বুলি বেগমকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি আনোয়ার হোসেন।
অন্যদিকে মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, কোনামালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাইদ মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার আগেই বাইরে খেলতে যায়। এর মধ্যে মাদ্রাসা ছুটি হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তার বইসহ একটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে চলে যায়।
পরে জুনাইদ বই নেওয়ার জন্য মাদ্রাসার কক্ষের চালের নিচ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
এইচএসএস