বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে কক্ষের তালা ভেঙে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে ফুটবল আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (০১ নভেম্বর) রাত ১০ টার দিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে দুই জন নারী অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করছেন এবং তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন পুরুষও অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলটির পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে খেলা শেষে স্কুলের পাশেই রাতে পিকনিকের আয়োজন করেন ফুটবল আয়োজন কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করা হয়। পরে পাশ্ববর্তী আমতলী উপজেলা থেকে দুই জন নারী ভাড়া করে এনে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করানো হয়।
ভিডিওতে নাচতে দেখা যাওয়া ফুটবল আয়োজন কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম তালুকদার (আলাল) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "ফুটবল খেলা শেষে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। রাতে বৃষ্টি নামলে আমরা স্কুলের ভেতরে যাই। সেখানে দুই-একটি নাচ হয়েছে এবং পরে আমরা চলে আসি। ভিডিওতে আমাকে দেখা গেলেও স্থানীয় লোকজন আমাকে টেনে তুলেছিল; কে বা কারা ভিডিও করেছে আমি জানি না। এছাড়া নাচতে আসা দুই নারী এই এলাকার নন, তাঁদের আমতলী থেকে আনা হয়েছিল।"
চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঢালি বলেন, "গত শুক্রবার তারা এ অনুষ্ঠান করেছে, যা আমি পরে জানতে পেরেছি। আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ও কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"
এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, "বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে ঢুকে কক্ষের তালা ভেঙে এ ধরনের আয়োজন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা স্পষ্ট স্কুলের ভেতরের এবং এমন অসামাজিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ অন্যায়।"
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এইচএসএস