এইমাত্র
  • খরচের চাপে কৃষক, আগাম সবজি চাষে লোকসানের শঙ্কা
  • চাঁদপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
  • বরিশালে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত
  • ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানি
  • সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে
  • ইবাদত কবুল হওয়ার ৪টি পূর্বশর্ত ও ৮ আলামত
  • গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠ: আরও জমি দেওয়ার আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
  • তাহসিফের সঙ্গে থাকা গ্রেপ্তার সেই তরুণীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
  • কালিয়াকৈরে অবরোধ-অগ্নিসংযোগ: পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল নিক্ষেপ
  • এনসিপি-জামায়াত হলো আ.লীগের সংগঠন: তারেক রহমান
  • আজ রবিবার, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১ নভেম্বর, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    উলিপুরে ২৬৮ স্কুলের ২০০টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই

    সাজাদুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
    সাজাদুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

    উলিপুরে ২৬৮ স্কুলের ২০০টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই

    সাজাদুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ২৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এতে একদিকে দাপ্তরিক দায়িত্বের চাপ, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দুই সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকেরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পাঠদান। শিক্ষার গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৬ হাজার ২৫০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৭ হাজার ১৭৬ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭৪ জন। অর্থাৎ উপজেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। এতে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। আবার অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    এদিকে কতজন শিক্ষক প্রেষণে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কিংবা বিভাগের বাইরে কর্মরত রয়েছেন, সে বিষয়ে শিক্ষা অফিসে হালনাগাদ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে মাঠপর্যায়ে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত জনবল পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাভলী বেগম বলেন, প্রতিদিন আমাকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। একদিকে শ্রেণিকক্ষের চাপ, অন্যদিকে দাপ্তরিক কাজ সব মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    মাদারটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ ফারুকী বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে ইতিমধ্যে নতুন শিক্ষক যোগদান করেছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের কাজ চলছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…