নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও গড়ে ওঠেনি স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরিবেশদূষণ, দূষিত হচ্ছে নদী-খাল ও জনবসতি, তৈরি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে সোনারগাঁয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি।
রবিবার (১ নভেম্বর) সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। অথচ শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বিস্তারের সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। পর্যাপ্ত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের পাশে, নদী-খালের পাড়ে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবর্জনার স্তূপ পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দুর্গন্ধ, পানি ও মাটিদূষণের পাশাপাশি বাড়ছে নানা রোগব্যাধির আশঙ্কা। শিল্পবর্জ্য ও হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
এ সংকট থেকে উত্তরণে স্মারকলিপিতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সোনারগাঁয়ে আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও চিকিৎসাবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও নিরাপদ নিষ্পত্তি, শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নদী-খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ উচ্ছেদ।
এ ছাড়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদন, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি, নাগরিকদের অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনারগাঁয়ের নদী, খাল, জলাশয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ শুধু স্থানীয় জনগণের স্বার্থেই নয়, বরং জাতীয় পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় একটি আধুনিক, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
এ বিষয়ে সংগঠনটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, “সোনারগাঁয়ে শিল্পায়ন ও জনবসতি বাড়লেও সেই অনুপাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নদী-খাল ও জনবসতিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সোনারগাঁয়ের দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি।
পিএম