পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চার রাজ্য ও এক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
রোববার (১৫ মার্চ) নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরির ভোটের তারিখ ঘোষণা করে কমিশন। সাংবাদিক বৈঠক করে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, তিন রাজ্যে আসাম, তামিলনাড়ু এবং কেরালায় নির্বাচন হবে এক দফায়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতেও হবে এক দফায় নির্বাচন। তবে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ফলপ্রকাশ হবে একই দিনে।
তিনি আরও বলেন, আসাম, কেরালা ও পদুচেরিতে ভোট হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে হবে ২৩ এপ্রিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্যের ভোট গণনা হবে ৪ মে। চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে এবারের বিধানসভা ভোটে মোট ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভোটার। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ হবে ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে।
পশ্চিমবঙ্গে মোট বিধানসভা আসন ২৯৪ টি। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২ দফা এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট। পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ৬ কোটি ৪৪ লাখ। রাজ্যটিতে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ২৮ লাখ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ১৬ লাখ। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১১৫২ জন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে।
অন্যদিকে আসামে ১২৬টি আসন ২ কোটি ৫০ লাখ ভোটার, ৯ এপ্রিল রাজ্যটিতে এক দফায় নির্বাচন হবে। আগামী ২০ মে আসাম বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে। কেরালাতে ১৪০টি বিধানসভা আসনে এক দফাতে হবে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যটিতে মোট ভোটার ২ কোটি ৭০ লাখ। কেরালার পঞ্চদশ বিধানসভার মেয়াদ রয়েছে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত।
তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে এক দফাতেই। আগামী ২৩ এপ্রিল হবে ভোট। রাজ্যটিতে মোট ভোটার ৫ কোটি ৬৭ লাখ। তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ আগামী ১০ মে শেষ হতে চলেছে। পদুচেরির ৩০ বিধানসভা আসনে হবে এক দফায় ভোট। ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। মোট ভোটার ৯ লাখ ৪৪ হাজার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ জুন।
কমিশন জানায়, মোট প্রায় ২৫ লাখ ভোট কর্মী এই ৪ রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। এদের মধ্যে মোট ১৫ লাখ পোলিং পার্সোনেল, সাড়ে ৮ লাখ নিরাপত্তারক্ষী, ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার, ১৪৪৪ অবজার্ভার, ৪০ লাখ কাউন্ডিং অফিশিয়াল, ২১ হাজার সিকিউরিটি অফিসার এবং গণনার জন্য ১৫ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন।
রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও, এদিন ছয় রাজ্যের আটটি বিধানসভা উপনির্বাচনের দিনক্ষণের ঘোষণাও দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। গুজরাট, গোয়া, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের দু’টি করে আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন কমিশন। গোয়া, কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। আট আসনেরই ভোটগণনা হবে ৪ মে।
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নির্বাচন। বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গই দ্বিতীয় রাজ্য যেখানে নির্বাচন হতে চলেছে। খসড়া তালিকায় আগেই ৫৮ লাখের নাম বাদ গিয়েছিল। বর্তমানেও ৬০ লাখ মানুষের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা নিয়ে আপত্তিও শোনা যাচ্ছে। যদিও রোববার সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, ইতিমধ্যেই এসআইআর হয়েছে পাঁচ রাজ্যে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।’
পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোট আট দফায় হয়েছিল। এবার দু’দফায় কেন? সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ বলেন, ‘কমিশন মনে করছে দফা কমানো প্রয়োজন। সকলের পক্ষে সুবিধাজনক এমন একটি পর্যায়ে এটি নামিয়ে আনা দরকার।’
এবি