ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়া কলেজছাত্র সুমন শেখের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে নিহতের বাড়িতে গিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকাল ৫টায় তিনি উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে শোকার্ত পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এসময় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, "চলমান সংসদ অধিবেশন চালু থাকার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই ছুটে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সুমন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সাথে আমি সরাসরি কথা বলব। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।"
এমপির পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামাল হোসাইন, সেক্রেটারী এস এম হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম রিদওয়ানুন্নবী (রেদওয়ান) এবং উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ছয়দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সুমন শেখকে। নিহত সুমন বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় সকল আসামিকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এনআই