এইমাত্র
  • ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানি
  • সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে
  • ইবাদত কবুল হওয়ার ৪টি পূর্বশর্ত ও ৮ আলামত
  • গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠ: আরও জমি দেওয়ার আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
  • তাহসিফের সঙ্গে থাকা গ্রেপ্তার সেই তরুণীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
  • কালিয়াকৈরে অবরোধ-অগ্নিসংযোগ: পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল নিক্ষেপ
  • এনসিপি-জামায়াত হলো আ.লীগের সংগঠন: তারেক রহমান
  • পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ২ ঘণ্টা পর ফের চালু মিরপুরের মেট্রো স্টেশন
  • পা দিয়ে লিখে আবারও রাব্বির জিপিএ-৫ অর্জন
  • মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে: পুলিশ
  • আজ রবিবার, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১ নভেম্বর, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    পা দিয়ে লিখে আবারও রাব্বির জিপিএ-৫ অর্জন

    এস এম ইকবাল হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
    এস এম ইকবাল হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

    পা দিয়ে লিখে আবারও রাব্বির জিপিএ-৫ অর্জন

    এস এম ইকবাল হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

    পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ‎২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর স্কুলে যাওয়ার পথে বৈদ্যুতিক তারে আটকা পরে হারিয়ে ছিলেন দুহাত। তাতে সাময়িকভাবে থমকে যায় তার জীবনের গতি। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল থাকার কারণে তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি কেউ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে। হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের পর এবারও চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে রফিকুল ইসলাম রাব্বি।

    তার বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজাও ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে। এদিকে রাব্বির ধারাবাহিক সাফল্যে তাকে দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ।‎

    রাব্বি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বজলুর রহমানের ছেলে। এর আগে ২০২৪ সালে সে একই এলাকায় হাজী তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলো।

    অভাব-অনটনের সংসারে কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে দিন কাটলেও থেমে থাকেনি জীবনসংগ্রাম। বজলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই দৈনিক মজুরির কাজ করে কঠোর পরিশ্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার। আয়-রোজগারের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই তাঁদের লড়তে হচ্ছে নতুন করে।

    বজলুর রহমান বলেন, রাব্বি দূর্ঘটনার পর লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছে আইসিডিডিআরবি গবেষক ডাক্তার ফেরেদৌস কাদেরী। এছাড়া ওসমান স্যার নামে এক শিক্ষক তাবে ফ্রিতে কোচিং-এ পড়াতেন। দূর্ঘটনার পর অনেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সহযোগীতায় ছেলেকে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া এবার তার বোন রোকাইয়া আক্তার রাউজাও ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ শাখায় পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

    ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল রাব্বি । তখন ব্রিজের ওপরে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে আটকা পড়ে সে। এতে তার দুই হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কয়েক মাসের চিকিৎসায় সে সুস্থ হলেও কেটে ফেলতে হয় তার দুই হাত। অদম্য রাব্বি আরও জানায়, এ ঘটনার পর সবাই ভেবেছিল রাব্বির পড়াশোনা আর হবে না। তবে অদম্য রাব্বি হার মানতে রাজি নয়।

    দুর্ঘটনার পর হাত হারানোর পরে প্রথম পর্যায়ে মুখ দিয়ে লেখা রপ্ত করেন। একপর্যায়ে সে একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য পেতে থাকে। কিন্তু আরও এগিয়ে যেতে সে পা দিয়ে লেখাও আয়ত্ত করে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লিখে সাফল্য পেয়ে আরও দ্রুতগতিতে লিখতে পা দিয়ে লেখা শুরু করে। সে এসএসসি পরীক্ষায় হাজী তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পা দিয়ে লিখে সফলতা অর্জন করার পর ধারাবাহিকভাবে এইচএসসিতেও চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ বিজ্ঞান বিভাগে থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।

    রাব্বি জানান, দুর্ঘটনার পর তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছি। হায়াত ছিল বিধায় মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছি। তার ফিরে আসা গল্পের অন্যতম নায়ক ছিল তার মা-বাবা। তার পাশাপাশি সাহস যুগিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। স্থানীয় সাংবাদিকরাও শুরু থেকে তাকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন লিখে সহযোগিতা করে। রাব্বির স্বপ্ন একদিন সে একজন বিজ্ঞানী হবে। এ জন্য সবার দোয়া চায়। সে বিজ্ঞান নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন বলে আশাবাদী।

    ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার বলেন, “রাব্বির এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার অদম্য চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সে কখনো নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করেনি। বরং অন্যরা যা পারে, সেও তা পারবে—এমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তার। আজ সেই বিশ্বাস ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই তার এই সাফল্য। রাব্বির এমন অর্জনে আমরাও গর্বিত।”

    ইখা

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…