সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, পিরোজপুরের মানুষ শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তাকে নির্বাচিত করে যে আমানত দিয়েছেন, তার সর্বোচ্চ মর্যাদা আজীবন রক্ষা করবো। একইসঙ্গে তিনি তার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শকে সমুন্নত রেখে এলাকায় উন্নয়ন ও দেশে ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এ কথা বলেন। স্পিকারের অনুমতিতে নির্ধারিত ৮ মিনিটের বক্তব্যে তিনি জুলাই-আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
মাসুদ সাঈদী ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সব শহীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ইসলামী আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।
শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। গত ১৫ বছরে কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে বলে টিআইবি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
জুলাই জাতীয় সনদ-এর প্রসঙ্গ টেনে মাসুদ সাঈদী বলেন, বিপ্লবী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হলো জুলাই সনদ। আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ দল এতে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিবস পার হতে চললেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। আমি আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হবে।
পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগর উপজেলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মাটি ও মানুষের নেতা আল্লামা সাঈদীকে হত্যার প্রতিবাদে পিরোজপুরের মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা আমার কাছে পবিত্র আমানত। আমি আমৃত্যু তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।
এইচএ