রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই ও মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারে বিক্রির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শতাধিক হাট-বাজারে নিয়মিত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না। সরকারি বিধি অনুযায়ী গরু, ছাগল বা মহিষ জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে অনেক বাজারেই এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু তাদের তদারকির অভাবে এ অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক বাজারে নির্ধারিতভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই পশু জবাই করা হয়। এতে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাংসের চাহিদা বাড়বে। এ সময় অসাধু কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বিক্রি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে উপজেলার বানেশ্বর হাটে জবাই করা একটি গরুর পেট থেকে বাছুর পাওয়া যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পাশের জেলা নাটোরে সম্প্রতি পশুর অ্যানথ্রাক্স রোগ শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর হাসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে পাঁচ সদস্যের একটি টিম মাঠে কাজ করবে। যাতে কোনো রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করতে না পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া পশুর মাংস বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা